Saturday, August 27, 2011

ইতেকাফের ফজিলত ও গুরুত্ব




‘ইতেকাফ’ আরবি শব্দ। এর অর্থ অবস্থান করা, নিজেকে কোনো স্থানে আবদ্ধ করে রাখা। আর শরিয়তের পরিভাষায় কতগুলো বিশেষ শর্তসাপেক্ষে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতেকাফ বলে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতিকে একমাত্র তাঁর ইবাদত-বন্দেগির জন্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি নিজেই ঘোষণা করেছেন, ‘আমি মানুষ এবং জিন জাতিকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।’ কাজেই মানবজাতির কর্তব্য হলো আল্লাহপাকের ইচ্ছাকে পূর্ণ করা-- কাজকর্মে, আচার- ব্যবহারে, কথাবার্তায়, ব্যবসা-বাণিজ্যে, দিনে-রাতে অর্থাৎ সর্বক্ষণ সর্বাবস্থায় আল্লাহর রেজামন্দি হাসিল করা, তাঁর ইবাদতে মশগুল থাকা।

ফরজ ইবাদত ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য যেসব ইবাদত করা হয় তার মধ্যে ইতেকাফ একটি অন্যতম ইবাদত। আত্মার উৎকর্ষ সাধনের জন্য সব ধরনের কুপ্রবৃত্তি দমন করে যেমন-- অনর্থক কাজ, অশ্লীল কথাবার্তা, সংসার, স্ত্রী, পুত্র, বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য তথা সব ধরনের দুনিয়াদারির কাজকর্ম পরিত্যাগ করে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের জন্য তাঁর দরবারে দিনরাত্রি পড়ে থাকাই ইতেকাফের মূল লক্ষ্য।

হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করবে সে দুটি ওমরাহ ও দুটি হজ আদায় করার সওয়াব পাবে।’
হজরত আয়েশা (রা.) আরো বলেন, ‘নবী করিম (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ পালন করতেন। তাঁর ওফাতের আগ পর্যন্ত তিনি ইতেকাফ পালন করে গেছেন। তারপর তাঁর পত্নীরাও তা পালন করেছেন।’ হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত,  ইতেকাফকারী নিজেকে পাপ থেকে মুক্ত রাখে এবং তাঁর জন্য পুণ্যসমূহ জারি রাখা হয়। (মিশকাত)

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি একদিন ইতেকাফ করে আল্লাহপাক তাঁর এবং জাহান্নামের মধ্যে তিন খন্দক দূরত্বের ব্যবধান রাখবেন। এই দূরত্ব হবে আসমান ও জমিনের দূরত্বের চেয়েও অধিক।

ইতেকাফের গুরুত্ব : ২০ রমজানুল মুবারক সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ আগে থেকে ২৯ অথবা ৩০ রমজান অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখার সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুরুষদের জন্য মসজিদে এবং নারীদের জন্য নিজ গৃহে নামাজের নির্ধারিত স্থানে নিয়মিত একাধারে অবস্থান করাকে ইতেকাফ বলে। রমজানের শেষ দশ দিনের এই ইতেকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়া। অর্থাৎ কোনো বস্তি বা মহল্লার একজনকে হলেও এই ইতেকাফ অবশ্যই করতে হবে। যদি অন্তত কোনো এক ব্যক্তি এই ইতেকাফ করে নেন, তাহলে সারা মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে ইতেকাফ আদায় হবে; কিন্তু মহল্লাবাসীর মধ্যে থেকে কেউ যদি ইতেকাফ আদায় না করেন, তবে এই দায়িত্বের প্রতি অবহেলার কারণে মহল্লাবাসী গুনাহগার হবেন। কাজেই সব মহল্লাবাসীর ওপর এই দায়িত্ব অর্পিত হয় যে, আগে থেকে তারা খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন, তাদের এলাকার মসজিদে কেউ ইতেকাফ করবে কিনা। যদি এমন পাওয়া না যায়, তাহলে চিন্তাভবনা ও আলাপ-আলোচনা সাপেক্ষে ইতেকাফে বসাতে হবে। কিন্তু স্মরণ রাখতে হবে, উজরত অর্থাৎ বিনিময় বা পারিশ্রমিক দিয়ে কাউকে ইতেকাফে বসানো জায়েজ নয়। কেননা ইবাদতের উজরত দেওয়া ও নেওয়া উভয়ই শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ ও হারাম (শামী)। ইতেকাফকারী যেন তার নিজ শরীর ও সমুদয় সময়কে আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দেন।

ইতেকাফ অবস্থায় ইতেকাফকারী সার্বক্ষণিক নামাজের সওয়াব পেয়ে থাকেন। যেহেতু মসজিদ আল্লাহর ঘর, সেহেতু ইতেকাফকারী আল্লাহর প্রতিবেশী বা আল্লাহর ঘরের মেহমান হয়ে যান। ইতেকাফের ফজিলত অনেক বেশি। রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করলে ২৭ রমজান যদি শবে কদর না-ও হয়, তবু এ ১০ দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট শবে কদরের ইবাদত ইতেকাফে আদায় হয়ে যায় এবং এর ফলে কদরের রাতের ফজিলতও লাভ করা যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যারা অন্তত এক দিন এক রাত ইতেকাফ করবে, তাদেরও জাহান্নামের মাঝখানে এরূপ তিনটি খন্দক আড় হবে, যার প্রত্যেকটির প্রশস্ত হবে ৫০০ বছরের রাস্তা।

ইতেকাফ অবস্থায় মানুষ আল্লাহর সম্মুখে এমনভাবে হাজির হয়ে থাকে যে, দুনিয়ার কোনো কিছুর প্রতিই তার খেয়াল থাকে না। তিনি তখন মৃত ব্যক্তির মতোই নিজেকে আল্লাহর মর্জির ওপর সঁপে দেন। মানুষ যতক্ষণ ইতেকাফ অবস্থায় থাকে ততক্ষণ তার প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত হিসেবে লেখা হয়। তার ঘুম, খাওয়া-দাওয়া, প্রতিটি নড়াচড়া পর্যন্ত ইবাদতে গণ্য হয়।

ইতেকাফে নবীয়ে করিম (সা.)-এর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। তিনি প্রতি বছর রমজান মাসের ইতেকাফের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করতেন। তিনি কখনো পুরো রমজান মাস ইতেকাফ করেছেন। ১০ দিনের ইতেকাফ তো তিনি প্রতি বছর অবশ্যই করতেন। একবার বিশেষ কারণে রমজান শরিফে ইতেকাফ করতে পারেননি, তাই শাওয়াল মাসে ১০ দিন রোজা রেখে তিনি ইতেকাফ করেছেন (বুখারি শরিফ)।

কিছু লোক মসজিদের জন্য খুঁটি হয়ে যান (অর্থাৎ এরা সর্বদাই মসজিদে অবস্থান করে)। ফেরেশতারা মসজিদে এরূপ মুমিনের সঙ্গী হয়ে যান। এরূপ লোকেরা যদি কখনো মসজিদে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে ফেরেশতারা তাঁদের অনুসন্ধান করেন, অসুস্থ হলে তাঁদের দেখতে যান এবং তাঁদের কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে ফেরেশতারা তাঁদের সাহায্য করেন।

ইতেকাফের ফজিলত শুধু পুরুষদের জন্য খাস নয়। নারীরাও এই ফজিলতে শরিক হতে পারেন। কিন্তু নারীদের মসজিদে ইতেকাফ করা উচিত নয়। তারা ইতেকাফ নিজ গৃহে করতে পারেন। তারা ঘরের নামাজ ও ইবাদতের জন্য যে স্থানটি আলাদা করে রাখা আছে, সে জায়গায় ইতেকাফে বসে যাবেন। যদি আগে থেকে ঘরে এমন স্থান নির্দিষ্ট করা না থাকে তাহলে ইতেকাফের আগে ঘরে একটি স্থান করে নেবেন এবং সেখানেই ইতেকাফ করবেন। (শামী)
নারী বিবাহিত হলে ইতেকাফের জন্য স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। স্বামীর অনুমতি ছাড়া তাদের জন্য ইতেকাফ করা জায়েজ নয়। (শামী) কিন্তু স্বামীর উচিত হলো স্ত্রীকে অনুমতি দেওয়া এবং বিনা কারণে তাদের ইতেকাফ থেকে বঞ্চিত না করা।

নারীদের ইতেকাফের জন্য হায়েজ ও নেফাস থেকে মুক্ত থাকা জরুরি। যদি কোনো নারী ইতেকাফ শুরু করেন, অতঃপর ইতেকাফ থাকা অবস্থায় হায়েজ শুরু হয়ে যায়, তাহলে হায়েজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইতেকাফ ছেড়ে দেওয়া তার ওপর ওয়াজিব। এমতাবস্থায় যেদিন ইতেকাফ ছাড়বেন, শুধু সেদিনের ইতেকাফ কাজা আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব হবে। কাজা আদায় করার নিয়ম হলো হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়ার পর যে কোনো দিন রোজা রেখে ইতেকাফ করবেন। যদি রমজান মাসের দিন বাকি থাকে তাহলে রমজানেও কাজা আদায় করতে পারবেন।

নারীরা ঘরের যে স্থান ইতেকাফের জন্য নির্দিষ্ট করবেন, সে স্থানটি ইতেকাফকালীন তার জন্য মসজিদের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে। ইসলামী শরিয়তের কোনো প্রয়োজন ছাড়া সেখান থেকে সরে যাওয়া জায়েজ হবে না। সে স্থানটির নির্দিষ্ট সীমার বাইরে, ঘরের অন্য অংশেও যেতে পারবেন না। নির্দিষ্ট সীমার বাইরে চলে গেলে ইতেকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে।

পুরুষের যেমন ইতেকাফ করতে চাইলে নিয়ত করতে হয়, রোজা রাখতে হয়, সুস্থ হতে হয়, কোনো নির্দিষ্ট মসজিদে অবস্থান করতে হয়, তেমনি নিজ গৃহে ইতেকাফকালীন নারীদের জন্যও এসব শর্ত সমানভাবে প্রযোজ্য।

লেখক : কলামিস্ট
ই-মেইল : karimmahishahporan@yahoo.com

বাংলাদেশ সময় ২১১৫ ঘণ্টা, আগস্ট ২৪, ২০১১

Tuesday, August 2, 2011

আহলান সাহলান মাহে রমযান

স্টাফ রিপোর্টার : আহলান সাহলান মাহে রমযান। দেশের বিভিন্নস্থানে রমযান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ মঙ্গলবার থেকে মুসলমানদের রোজা শুরু হলো। দীর্ঘ এগারটি মাসের পাপ পঙ্কিল থেকে মুক্ত হওয়ার অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় পবিত্র রমযান। রোজা ইসলামের মৌলিক ইবাদাতের মধ্যে অন্যতম।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে নতুন মাস গণনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভা কক্ষে বৈঠক শেষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়া সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে কমিটির সভা শুরু হয়। বৈঠকে ধর্মসচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা সালাহ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার রাতে এশার নামাযের পরপরই মসজিদে মসজিদে মুসল্লিরা জামাতে তারাবির নামায আদায় করেন। মসজিদে মসজিদে খতম তারাবিও শুরু হয়েছে। ভোররাতে সেহরী খেয়ে রোজা শুরু করেন রোজাদাররা। সন্ধ্যায় ইফতারীর মাধ্যমে শেষ হবে রোজা।
ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হল রোজা। কালের পরিক্রমার পথ ধরে মুসলিম উম্মাহর কাছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বারতা নিয়ে আবার এসেছে পবিত্র মাহে রমযান। আল্লাহর বিশেষ করুণা ও  দয়ার অপার সুযোগের মাস মাহে রমযান। দীর্ঘ এগারটি মাসের পাপ পঙ্কিল থেকে মুক্ত হওয়ার অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় পবিত্র রমযান। রোজা ইসলামের মৌলিক ইবাদাতের মধ্যে অন্যতম। আর এ রোজা পবিত্র রমযান মাসেই আমাদের ওপর ফরয করা হয়েছে।
আল্লাহ পাক রমযান মাসের রোজা ফরয করেছেন এবং এর রাতগুলোতে আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে নফল ইবাদত রূপে সুনির্দিষ্ট করেছেন। মুসলমানের আত্মশুদ্ধি অর্জনের একটি উপায় হচ্ছে। রোজা শুধু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপবাস নয়, বরং রোজার অর্থ হল সব জাগতিক আরাম-আয়েশ থেকে দেহ-মনকে রক্ষা করা। আর এ মাসেই মহাগ্রন্থ আল কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল।
মাহে রমযান উপলক্ষে
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
বাণী
রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান পবিত্র রমযান উপলক্ষে বাণী প্রদান করেছেন। এতে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘‘সিয়াম সাধনা ও সংযমের মাস পবিত্র মাহে রমযান আমাদের মাঝে সমাগত। অশেষ রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের এই মাসে আমি দেশবাসীসহ বিশ্ব সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাই। মাহে রমযান আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা লাভের অপার সুযোগ নিয়ে প্রতিবছর আমাদের কাছে হাজির হয়। এ মাস মহান আল্লাহর নৈকট্যলাভ, রহমত ও শান্তি এবং ক্ষমা লাভের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয়। সিয়াম ধনী-গরীব সকলের মাঝে পারস্পরকি সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। আমি আশা করি সবাই রমযানের পবিত্রতা ও তাৎপর্য অনুধাবন করে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে এর প্রতিফলন ঘটাবেন। রমযানের শিক্ষা সমাজের সকল স্তরে প্রতিফলিত হোক এই প্রার্থনা করি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র রমযান উপলক্ষে প্রদত্ত এক বাণীতে বলেছেন, ‘‘পবিত্র রমযান উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি জানাই আমার আন্তরিক মোবারকবাদ। আত্মসংযম, অনুকম্পা ও ক্ষমা লাভের মাস রমযান। এ মাসে ত্যাগ স্বীকারের শিক্ষার মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ হয়। পবিত্র রমযানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাবতীয় ভোগ-বিলাস, হিংসা-দ্বেষ, উচ্ছৃক্মখলতা ও পারস্পরিক সংঘাত পরিহার করে ব্যক্তিগত ও সমাজ জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহবান জানাই। মহান আল্লাহ আমাদের ব্যক্তিগত এবং জাতীয় জীবনে পবিত্র রমযানের শিক্ষা কার্যকর করার তাওফিক দান করুন। তথ্য বিবরণী


রমযান উপলক্ষে শুভেচ্ছা বাণী
হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি
পরিহার করে সমাজে শান্তি
বজায় রাখুন
-বেগম খালেদা জিয়া
পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি বাংলাদেশসহ মুসলিম উম্মাহর সবাইকে জানান আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমান রমযান মাসে সিয়াম সাধনার মধ্যদিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আত্মার পরিশুদ্ধির প্রশিক্ষণে নিয়োজিত হয়। সারা দিন সকল ধরনের পানাহার থেকে মুক্ত হয়ে মোমিন মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেন। অন্যায়, জুলুম, অবিচার এবং লোভ-লালসাসহ সকল ধরনের পাপকাজ থেকে বিরত থাকার এক মহান শিক্ষা দেয় মাহে রমযান। এ শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে নিজেদেরকে পবিত্র মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদেরকে ব্রতী হতে হবে। অনাচার, হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি পরিহার করে সমাজে শান্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকা প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। মাহে রমযান প্রতিটি মুসলমানের জীবনে বয়ে আনুক শান্তি-সুখের বার্তা, সবার জীবন হয়ে উঠুক মঙ্গলময়, মহান আল্লাহ রাববুল আলামীনের দরবারে তিনি এ প্রার্থনা জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি


রমযানের পবিত্রতা রক্ষায় জামায়াতের আহবান
মাহে রমযানের পবিত্রতা রক্ষা এবং তাকওয়াভিত্তিক চরিত্র গঠনের মাধ্যমে আত্মগঠনের জন্যে সযত্ন প্রচেষ্টা চালাবার আহবান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম গতকাল সোমবার যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে মাহে রমযান আবার সমাগত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এ মাসের প্রথম অংশ রহমতের, মধ্যবর্তী অংশ মাগফিরাতের, শেষ অংশ নাজাতের। এ মাসের শেষ দশ দিনের মধ্যে রয়েছে একটি বরকতময় রাত যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ মাসে একটি ফরজ কাজ আঞ্জাম দিলে অন্য মাসের ৭০টি ফরজ কাজের সমান সওয়াব পাওয়া যায়; আর ১টি নফল কাজের আঞ্জাম দিলে ফরজ কাজের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়। এ মাস সবর ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীলতার মাস।
দলমত নির্বিশেষে সব মুসলমান ভাইবোনের প্রতি কুরআন নাযিলের এ মাসটি পূর্ণ মর্যাদাসহকারে পরিপূর্ণ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করার জন্য নেতৃদ্বয় আহবান জানান।
মাহে রমযানের রোজার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে আত্মবিশ্লেষণ করে আল্লাহর নিকট থেকে সওয়াব লাভের আশায় মহববতের সাথে রোজা পালনের এবং রমযানের গুরুত্ব ও ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসগুলো শুরুতেই অধ্যয়ন করে নেয়ার জন্যে তারা সকলের প্রতি আহবান জানান।
নেতৃদ্বয় বলেন, পবিত্র এ রমযান মাস কুরআন নাজিলের মাস। কুরআন মানবজাতির প্রতি আল্লাহ তায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। কুরআন থেকে হেদায়াত লাভের জন্য যে মনমানসিকতা ও চরিত্রের প্রয়োজন, সেই মন ও চরিত্র সৃষ্টির জন্য আল্লাহ তায়ালা মাহে রমযানের রোজা পালনকে আমাদের প্রতি ফরজ করেছেন। এক মাসব্যাপী রোযা পালনের মাধ্যমে সে লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হওয়ার জন্য তারা সকলের প্রতি আহবান জানান।
এ মাসে বেশি বেশি নেক আমল, কুরআন-হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন এবং রমযানের পবিত্রতা রক্ষা করে যথার্থভাবে সিয়াম সাধনা করার লক্ষ্যে যাবতীয় বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা থেকে সমাজকে রক্ষার জন্য নেতৃদ্বয় দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান। সেই সাথে প্রতিবেশী ও দরিদ্র রোজাদারদের ইফতার করানোর মাধ্যমে সওয়াব হাসিল করার জন্য সচ্ছল ও বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানান।
রোজাদারদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের পরিচয় দিয়ে আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রব্যমূল্য কমানো, পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা সরকারের প্রতি আহবান জানান। সেই সাথে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং অধিক মুনাফা লাভের মানসিকতা পরিহার করার জন্য তারা দেশের ব্যবসায়ী মহলের প্রতি আহবান জানান।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=59814 

Monday, August 1, 2011

পরীক্ষার নাম আমন্ত্রণরক্ষা ৷৷ দুই নেত্রী পরীক্ষার্থী, জনগণ পরীক্ষক



আবু হাসান শাহরিয়ার:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া পরস্পরকে দলীয় ইফতার পার্টিতে আমন্ত্রণ করেছেন৷ রাজনৈতিক শিষ্টাচার হিসেবে বিষয়টি ইতিবাচক হলেও খবর হিসেবে গৌণ৷ ততক্ষণ পর্যনত্ম গৌণ, যতক্ষণ না দুই নেত্রীর কোনও একজন আমন্ত্রণরক্ষা করছেন৷ গৌণ খবরটিই তখন হয়ে উঠবে শীর্ষ খবর৷ আর দুই নেত্রীই আমন্ত্রণরক্ষা করলে তো কথা নেই- পূরণ হবে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা৷ এরকম একটি খবর বাংলাদেশের মানুষকে একদিনের জন্য হলেও স্বসত্মিতে রাখবে৷ স্বসত্মির বাতাস বইবে আমাদের গুমোট রাজনীতিতেও৷

এবার প্রাসঙ্গিক অন্য কথা-

৪ আগস্ট বিএনপির এবং ৬ আগস্ট আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টি মূলত জোটগতভাবে দল দুটির শক্তিপ্রদর্শনের মহড়া৷ সেই মহড়ায় একজন আরেকজনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দুই নেত্রী পরস্পরকে পরীক্ষায় ফেলেছেন৷ প্রথম আমন্ত্রণটি এসেছে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এবং মিডিয়ায়ও বিএনপির ইফতার পার্টির ঘোষণাই আগে এসেছে৷ অনতিপরবর্তীকালে আওয়ামী লীগও দলের ইফতার পার্টির ঘোষণা দেয় এবং দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়৷ এবার পুরো বিষয়টি একটু বিশেস্নষণ করা যাক৷ মুজিবকন্যা শেখ হাসিনাকে রীতিমতো অগি্নপরীক্ষায় ফেলেছেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া৷ কেমন? এ যেন টাইব্রেকারের পর সাডেন ডেথে খেলার নিষ্পত্তি- কিক মিস করলে প্রথম দলের মহা বিপত্তি- খেলা চলে যাবে প্রতিপক্ষের পায়ে৷ তখন গোল করতে পারলেই দ্বিতীয় দলের জয় (তবে না-করতে পারলে প্রথম দল আবার সুযোগ পাবে)৷ অর্থাত্‍ ইফতার-রাজনীতিতে জয়ী হতে চাইলে ৪ আগস্ট আমন্ত্রণরক্ষা করে বিএনপির ইফতার পার্টিতে হাজির না-থেকে উপায় নেই মুজিবকন্যার৷ তিনি যদি আমন্ত্রণরক্ষা না-করেন, বল চলে যাবে প্রতিপক্ষের দখলে- আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টিতে হাজির হলেই খালেদা জিয়া জয়ী৷

তবে একজনের জয় অন্যজনের পরাজয় নয়, এ খেলায় জনগণের প্রত্যাশা- ড্র৷ দুই নেত্রী পরস্পরের আমন্ত্রণরক্ষা করলেই শুধু এ প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে৷ একদিন স্বসত্মিতে থাকতে পারে বাংলাদেশ৷

পুনশ্চ: এতদিন ঈদকার্ড ও ইংরেজি-বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছাকার্ডসহ দুই নেত্রী পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাতেন ডাকযোগে; কখনও বা বাহক মারফত৷ এবার তারা এক ধাপ এগিয়ে ইফতারের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন দলীয় নেতাদের মাধ্যমে৷ আরেকটু এগিয়ে দুই নেত্রী কি পরস্পরকে টেলিফোনেও ইফতার পার্টির আমন্ত্রণ জানাতে পারেন না? সময় কিন্তু এখনও ফুরিয়ে যায়নি৷ http://www.amadershomoy1.com/content/2011/08/01/news0964.htm