Tuesday, August 2, 2011

আহলান সাহলান মাহে রমযান

স্টাফ রিপোর্টার : আহলান সাহলান মাহে রমযান। দেশের বিভিন্নস্থানে রমযান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ মঙ্গলবার থেকে মুসলমানদের রোজা শুরু হলো। দীর্ঘ এগারটি মাসের পাপ পঙ্কিল থেকে মুক্ত হওয়ার অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় পবিত্র রমযান। রোজা ইসলামের মৌলিক ইবাদাতের মধ্যে অন্যতম।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে নতুন মাস গণনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভা কক্ষে বৈঠক শেষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়া সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে কমিটির সভা শুরু হয়। বৈঠকে ধর্মসচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা সালাহ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার রাতে এশার নামাযের পরপরই মসজিদে মসজিদে মুসল্লিরা জামাতে তারাবির নামায আদায় করেন। মসজিদে মসজিদে খতম তারাবিও শুরু হয়েছে। ভোররাতে সেহরী খেয়ে রোজা শুরু করেন রোজাদাররা। সন্ধ্যায় ইফতারীর মাধ্যমে শেষ হবে রোজা।
ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হল রোজা। কালের পরিক্রমার পথ ধরে মুসলিম উম্মাহর কাছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বারতা নিয়ে আবার এসেছে পবিত্র মাহে রমযান। আল্লাহর বিশেষ করুণা ও  দয়ার অপার সুযোগের মাস মাহে রমযান। দীর্ঘ এগারটি মাসের পাপ পঙ্কিল থেকে মুক্ত হওয়ার অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় পবিত্র রমযান। রোজা ইসলামের মৌলিক ইবাদাতের মধ্যে অন্যতম। আর এ রোজা পবিত্র রমযান মাসেই আমাদের ওপর ফরয করা হয়েছে।
আল্লাহ পাক রমযান মাসের রোজা ফরয করেছেন এবং এর রাতগুলোতে আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে নফল ইবাদত রূপে সুনির্দিষ্ট করেছেন। মুসলমানের আত্মশুদ্ধি অর্জনের একটি উপায় হচ্ছে। রোজা শুধু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপবাস নয়, বরং রোজার অর্থ হল সব জাগতিক আরাম-আয়েশ থেকে দেহ-মনকে রক্ষা করা। আর এ মাসেই মহাগ্রন্থ আল কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল।
মাহে রমযান উপলক্ষে
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
বাণী
রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান পবিত্র রমযান উপলক্ষে বাণী প্রদান করেছেন। এতে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘‘সিয়াম সাধনা ও সংযমের মাস পবিত্র মাহে রমযান আমাদের মাঝে সমাগত। অশেষ রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের এই মাসে আমি দেশবাসীসহ বিশ্ব সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাই। মাহে রমযান আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা লাভের অপার সুযোগ নিয়ে প্রতিবছর আমাদের কাছে হাজির হয়। এ মাস মহান আল্লাহর নৈকট্যলাভ, রহমত ও শান্তি এবং ক্ষমা লাভের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয়। সিয়াম ধনী-গরীব সকলের মাঝে পারস্পরকি সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। আমি আশা করি সবাই রমযানের পবিত্রতা ও তাৎপর্য অনুধাবন করে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে এর প্রতিফলন ঘটাবেন। রমযানের শিক্ষা সমাজের সকল স্তরে প্রতিফলিত হোক এই প্রার্থনা করি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র রমযান উপলক্ষে প্রদত্ত এক বাণীতে বলেছেন, ‘‘পবিত্র রমযান উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি জানাই আমার আন্তরিক মোবারকবাদ। আত্মসংযম, অনুকম্পা ও ক্ষমা লাভের মাস রমযান। এ মাসে ত্যাগ স্বীকারের শিক্ষার মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ হয়। পবিত্র রমযানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাবতীয় ভোগ-বিলাস, হিংসা-দ্বেষ, উচ্ছৃক্মখলতা ও পারস্পরিক সংঘাত পরিহার করে ব্যক্তিগত ও সমাজ জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহবান জানাই। মহান আল্লাহ আমাদের ব্যক্তিগত এবং জাতীয় জীবনে পবিত্র রমযানের শিক্ষা কার্যকর করার তাওফিক দান করুন। তথ্য বিবরণী


রমযান উপলক্ষে শুভেচ্ছা বাণী
হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি
পরিহার করে সমাজে শান্তি
বজায় রাখুন
-বেগম খালেদা জিয়া
পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি বাংলাদেশসহ মুসলিম উম্মাহর সবাইকে জানান আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমান রমযান মাসে সিয়াম সাধনার মধ্যদিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আত্মার পরিশুদ্ধির প্রশিক্ষণে নিয়োজিত হয়। সারা দিন সকল ধরনের পানাহার থেকে মুক্ত হয়ে মোমিন মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেন। অন্যায়, জুলুম, অবিচার এবং লোভ-লালসাসহ সকল ধরনের পাপকাজ থেকে বিরত থাকার এক মহান শিক্ষা দেয় মাহে রমযান। এ শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে নিজেদেরকে পবিত্র মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদেরকে ব্রতী হতে হবে। অনাচার, হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি পরিহার করে সমাজে শান্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকা প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। মাহে রমযান প্রতিটি মুসলমানের জীবনে বয়ে আনুক শান্তি-সুখের বার্তা, সবার জীবন হয়ে উঠুক মঙ্গলময়, মহান আল্লাহ রাববুল আলামীনের দরবারে তিনি এ প্রার্থনা জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি


রমযানের পবিত্রতা রক্ষায় জামায়াতের আহবান
মাহে রমযানের পবিত্রতা রক্ষা এবং তাকওয়াভিত্তিক চরিত্র গঠনের মাধ্যমে আত্মগঠনের জন্যে সযত্ন প্রচেষ্টা চালাবার আহবান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম গতকাল সোমবার যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে মাহে রমযান আবার সমাগত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এ মাসের প্রথম অংশ রহমতের, মধ্যবর্তী অংশ মাগফিরাতের, শেষ অংশ নাজাতের। এ মাসের শেষ দশ দিনের মধ্যে রয়েছে একটি বরকতময় রাত যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ মাসে একটি ফরজ কাজ আঞ্জাম দিলে অন্য মাসের ৭০টি ফরজ কাজের সমান সওয়াব পাওয়া যায়; আর ১টি নফল কাজের আঞ্জাম দিলে ফরজ কাজের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়। এ মাস সবর ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীলতার মাস।
দলমত নির্বিশেষে সব মুসলমান ভাইবোনের প্রতি কুরআন নাযিলের এ মাসটি পূর্ণ মর্যাদাসহকারে পরিপূর্ণ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করার জন্য নেতৃদ্বয় আহবান জানান।
মাহে রমযানের রোজার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে আত্মবিশ্লেষণ করে আল্লাহর নিকট থেকে সওয়াব লাভের আশায় মহববতের সাথে রোজা পালনের এবং রমযানের গুরুত্ব ও ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসগুলো শুরুতেই অধ্যয়ন করে নেয়ার জন্যে তারা সকলের প্রতি আহবান জানান।
নেতৃদ্বয় বলেন, পবিত্র এ রমযান মাস কুরআন নাজিলের মাস। কুরআন মানবজাতির প্রতি আল্লাহ তায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। কুরআন থেকে হেদায়াত লাভের জন্য যে মনমানসিকতা ও চরিত্রের প্রয়োজন, সেই মন ও চরিত্র সৃষ্টির জন্য আল্লাহ তায়ালা মাহে রমযানের রোজা পালনকে আমাদের প্রতি ফরজ করেছেন। এক মাসব্যাপী রোযা পালনের মাধ্যমে সে লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হওয়ার জন্য তারা সকলের প্রতি আহবান জানান।
এ মাসে বেশি বেশি নেক আমল, কুরআন-হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন এবং রমযানের পবিত্রতা রক্ষা করে যথার্থভাবে সিয়াম সাধনা করার লক্ষ্যে যাবতীয় বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা থেকে সমাজকে রক্ষার জন্য নেতৃদ্বয় দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান। সেই সাথে প্রতিবেশী ও দরিদ্র রোজাদারদের ইফতার করানোর মাধ্যমে সওয়াব হাসিল করার জন্য সচ্ছল ও বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানান।
রোজাদারদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের পরিচয় দিয়ে আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রব্যমূল্য কমানো, পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা সরকারের প্রতি আহবান জানান। সেই সাথে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং অধিক মুনাফা লাভের মানসিকতা পরিহার করার জন্য তারা দেশের ব্যবসায়ী মহলের প্রতি আহবান জানান।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=59814 

No comments:

Post a Comment